Translate
Sunday, 29 August 2021
ঝিঙে বাটায় রসনার তৃপ্তি
Sunday, 22 August 2021
The Advanced Guide to Heritage Spots Of Mizoram
পাহাড়ি জাতির ভূমি----মিজোরাম তুমি
প্রথম পর্বের পর---
| heritage spot solman temple সলমন টেম্পল |
আলোয় ঝলসে যাচ্ছে চারিদিক। চার্চের সামনে বিশাল একটা স্টেজ। বিশাল এক কফি নাইটের আয়োজন। রাস্তার কিছুটা অংশ ঘিরে ভি আই পি বসার আয়োজন। একটা করে সেন্টার টেবিল আর চারটে চেয়ার। একটি সুন্দরী মিজো মেয়ে প্রত্যেক টেবিলে একটা করে ভাঁজ করা কাগজ রেখে চলে গেল। জানা হলো না কেন। সুযোগ পেলাম না কাউকে জিজ্ঞাসা করার। চারপাশে সাধারণ মিজো বাসিন্দার ভিড়। যেদিকে তাকাই অল্প বয়সের, মাঝ বয়সের যুবক-যুবতীরা মদ্দপ অবস্থায় হুল্লোড় করছে, ঢলে পড়ছে একে অপরের গায়ে। স্টেজে অর্কেস্টার সাথে একটি বাচ্চা মেয়ে মিজো ভাষায় উদ্বোধনী সঙ্গীত গাইছে। না, কোনো ট্র্যাডিশনের ছোঁয়া পেলাম না। আমরাও মিজোদের ভিড়ে মিশে দাঁড়িয়ে পড়লাম। নাচ, গান সবেতাই সেই পাশ্চাত্যের উপস্থিতি।
‘ আন্তোরিয়াম’ মিজোরামের প্রিয় ফুলের নামে এই উৎসবই এখানকার ট্র্যাডিশন্যাল উৎসব। এপ্রিল-মে মাসে সাতদিন ধরে এখানকার ট্র্যাডিশন্যাল নাচ,গান চলে। থাকে হাতে তৈরি জিনিসের পসরা। কিন্তু এখানকার মানুষ পাশ্চাত্য কালচারকে এত ভীষণ ভাবে গ্রহণ করেছে যে, খ্রিস্টমাসের এই উৎসব প্রায় ওদের জাতীয় উৎসবের আকার ধারণ করেছে। ভাবা যায়, টানা দশদিন কেউ দোকানপাট খুলবে না, রাস্তায় কোনো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট রাজধানীর বাইরে যাবে না বা বাইরের গাড়িও প্রায় আসে না বললেই চলে। আগেরদিনই পুঁইয়াজি বলেছিলেন, ‘ আপ লোগোকা দুর্গাপূজা য্যাইসা হামারা খ্রিস্টমাস সেলিব্রেশন’। আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে ‘মিম কূট’ নামে একটি বিশেষ উৎসব হয়। ভুট্টা চাষকে কেন্দ্র করে। নতুন ফসল ঘরে তোলার আগে মাচায় রেখে পূর্বপুরুষকে উৎসর্গ করা হয়। এই উৎসবটার সাথে বেশ একটা মিল পেলাম আমাদের নবান্নের। আসলে ভারতের নানা ভাষা, নানা পথ, নানা জাতির মধ্যেই কোথাও যেন একটা মিলন সূত্রে গাঁথা আছি আমরা!
২৫শে ডিসেম্বর সকাল। আগের দিন রাতেই হোটেলের ম্যানেজার কপালে একটা অশনি সংকেত ঝুলিয়ে দিয়েছেন। আসাম থেকে কোনো গাড়ি আসছেনা। আর মিজোরাম থেকে কোনো গাড়ি এই মরশুমে (আসাম) শিলচর যেতে নারাজ।এমন হলে ২৬ তারিখ শিলচর যাওয়া হবে না। বদলে যাবে ভ্রমণসূচি। একটা চিন্তার ভাঁজ কপালে নিয়েই ঘুম থেকে ওঠা। ২৫ তারিখ প্রথমে আমাদের গন্তব্য ছিল তামডিল লেক। কিন্তু এখানে এসে শুনলাম তেমন কিছু দেখার মত নয়, তাই সে পথে না গিয়ে আমরা চললাম শহরের মধ্যস্থলে অবস্থিত ‘সলমন টেম্পল’ এ। এটি এখানকার একটি বিখ্যাত চার্চ। বড়োদিনের সকালে আইজলের রাস্তা পোশাকের রঙে আর মানুষের ভিড়ে সেজে উঠেছে। রাস্তায় নজরে আসা প্রতিটি মিজো রমণীর পরনে ‘পঞ্চেই’, উপরে ব্লাউজ। এটাই এখানকার ট্র্যাডিশনাল পোশাক। এই বিশেষ দিনে চার্চ সব সম্প্রদায় এর জন্য অবাধ প্রবেশ। প্রাধন দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতেই মনে হল তারায় মোড়া কোনো এক ঘুমের রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছি আমরা। সামনেই দুধসাদা বিশাল আকারের সলমন টেম্পল দাঁড়িয়ে। বিস্তৃত বাগান যেন এক আজব দুনিয়া! প্রার্থনা সংগীত ভেসে আসছে। সে সুরের আবেশ গোটা চার্চের চারিপাশে যেন এক ইন্দ্রজাল ছড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় খ্রিস্টানধর্মাবলম্বী মিজোদের দুপুরে এখানেই আহারের ব্যবস্থা। পুরো চার্চ ঘুরে দেখতে প্রায় ঘন্টাখানেক সময় কোথা দিয়ে যেন কেটে গেল! কিন্তু চার্চের অভূতপূর্ব পরিবেশের আবেশ স্রোতস্বিনী নদীর মতো অন্তরে প্রবাহিত হতে লাগল। সে আবেশ বুকে নিয়ে আমরা চললাম আমাদের আলটিমেট গন্তব্য ‘ রেইক হেরিটেজ ভিলেজ’ 'reiek heritage village'। সেখানে আছে মিজোরামের আদিম অধিবাসীদের ব্যবহারের গৃহসামগ্রী, বাড়ি ঘর এইসব। এখানে আসার আগে থেকেই এই স্থানটির প্রতি একটা অমোঘ আকর্ষণ ছিল। মনে এক অনন্ত পরিতৃপ্তি নিয়ে যখন ছুটে চলেছি হেরিটেজ ভিলেজের পথে, কোথায় যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি সব ভুলে হারিয়ে গেলাম এক অনন্য দুনিয়ায়। এখানকার পথ মায়াবিনী! এ পথে,পথ হারাতেও ভালো লাগে, ভালো লাগে অনন্তকাল ধরে চলতে। চোখ কিছুতেই ক্লান্ত হয় না, মনের তৃষ্ণা মেটে না! প্রায় ঘন্টাখানেকের পথ পেরিয়ে পৌঁছালাম “যোকহাম, ফালকান”। যদিও এটা মিজোরাম ‘আর্ট এন্ড ক্যালচার ডেভলপমেন্ট’ ডিপার্টমেন্টের অংশ তবুও ২৫শে ডিসেম্বর খোলা ছিল। প্রবেশদ্বারের বাঁ দিকে টিকিট কেটে এগিয়ে চললাম আমরা। একটা ছায়াঘেরা কাঁচা সরু রাস্তা এঁকে বেঁকে চলে গিয়েছে সামনে। একটু এগিয়ে বাঁদিকে একটা চাতালে আমরা ব্রেকফাস্ট সারছি যখন, হঠাৎ নজর থমকে গেল গোটা চার যুবকের দিকে। চাতাল থেকে কয়েকহাত দূরেই বসে আছে। একজনের হাতে একটা লোহার দন্ড বাকিদের হাতে বিশাল আকারের চকচকে ধারাল অস্ত্র। তাতে শান দেওয়া চলছে। ওরা নিজেদের মধ্যে মিজোভাষায় কিযেন বলে চলেছে। চারিদিকে নির্জন, ছুটিরদিন অফ সিজন। ট্যুরিস্ট বলতে শুধু আমরা ক’জন। কেমন যেন গা টা ছমছম করে উঠল। দূরে কোনো চার্চ থেকে অজানা এক বাদ্যযন্ত্রের পাহাড় কাঁপানো দম দম আওয়াজ ভেসে আসছে। হঠাৎ-ই লোকগুলো উঠে দাঁড়িয়ে আমাদের চাতালের দিকে এগোতে লাগল। না, কিছুটা এগিয়ে ওরা চাতালের পাশ দিয়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নীচে চলে গেল। বুঝলাম, শিকারের আয়োজন চলছিল এতক্ষণ। আমরাও ব্রেকফাস্ট সেরে সামনে এগোতে লাগলাম। একটা বড়ো মাঠের মতো অংশে মডেল ঘর গুলো সাজানো রয়েছে।
| রেইক ভিলেজ reiek village |
এখানে ঘর বানানোর মূল উপাদান বাঁশ। সাধারণত ৫ বছরের পুরানো বাঁশকে মূল ফাউন্ডেশনের কাজে লাগানো হয়। ছাদ ও দেওয়াল গঠন করতে ৩ বছরের পুরানো বাঁশ ব্যবহার করা হয়। পিলার হিসাবে কাঠের যে দন্ড ব্যবহার করা হয় তাকে মিজো ভাষায় বলে ‘ SUT’. যদিও বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চল বলে এখানে ঘরের ছাদে ঢাল থাকে, তবুও আমাদের কড়িবরগার মত এদের ছাদের কাঠামোর অংশ দুটিকে বলে ‘KHANTHHUK’ , ‘ SECHHUAR’. ঘরের মেঝে ও দেওয়াল তৈরি করা split bamboo, flat bamboo. দিয়ে।
একটা বিশাল আকারের বাঁশেরঘর দেখে আমরা ভিতরে গেলাম। ছোট্ট বারান্দা মত অংশের পরই দেখলাম আর এগোনোর উপায় নেই। হলঘরের মত বড় ঘরটির এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত কোমর সমান উচ্চতায় কাঠের পিলার দিয়ে আটকানো। ওপারে যেতে হলে ডিঙিয়ে যেতে হবে। মাঝ বরাবর একটা কমন আগুন পোহানোর জায়গা। বুঝতেই পারছিলাম এটা গ্রামের পঞ্চায়েত জাতীয় বিশেষ কোনো স্থান। এই নিয়ে আমাদের আলচনার মাঝেই এক ভদ্রলোক এসে দাঁড়ালেন আমাদের কাছে। অস্পষ্ট হিন্দি মেশানো বাংলায় বললেন ‘ এটা আসলে মিজো আদিবাসীদের যৌবনের সূচক নির্ণয়ক ঘর। মিজো আদিবাসী যুবকদের মধ্যে যারা এটা টপকে ওপ্রান্ত প্রবেশ করতে পারবে, তারা যুবক হয়েছে বলে মেনে নেবে সমাজ। এহেন বিদেশে বাংলা বোঝা মানুষ পেয়ে আমরা যে অবাক,সেটা বুঝি বলার অপেক্ষা রাখে না। আসলে ভদ্রলোকটি চাকরি সুত্রে ২ বছর পশ্চিমবঙ্গে কাটিয়েছেন। তাঁর কাছে জেনে নিলাম এখানে রাখা আদিবাসীদের ব্যবহারের জিনিস গুলির নাম,কাজ। একটা সিঙা মত জিনিস হাতে তুলে বললেন, ‘ এটা আদিবাসী যুবকদের কাছে খুব সম্মানের জিনিস। কোনো বীর যুবক সাহসের কাজ করলে রাজা তাকে মদ্যপানের পাত্র হিসাবে এই জিনিসটি উপহার দিত’। আরও অনেক ছোটো গল্প শুনতে শুনতে মাঝে মাঝে যেন কোথায় হারিয়ে গেলাম। কল্পনারা ডানা মেলে উড়ছিল। অদেখা এক আদিম জনজাতির নিজস্ব সমাজ জীবনের অলিতে গলিতে। ওই তো, এক যুবক লাফ দিয়ে পৌঁছে গেল ওপারে। তার হাতে রাজা তুলে দিলেন মদ্যপানের পাত্র।
| মিজো আদিবাসীদের ব্যবহারের পাত্র |
রেইক ভিলেজ থেকে বেরিয়ে পাশেই দেখলাম একটা আদিবাসী গ্রাম। একটি মানুষেরও দেখা মিলল না। ছায়া ছায়া রাস্তায় নিঃশব্দে হেঁটে যেতে যেতে দেখলাম, ডানদিকে পাহাড়ের ঢালে বাঁশের খুঁটির উপর বাঁশের ঘর, শৌচাগার, শূকর রাখার বাঁশের খাঁচা, প্রতিটা বাড়ি একই। আধুনিকতা বলতে বাঁশের দরজায় ঝুলানো মিটার আর বৃষ্টির জল সঞ্চয়ের জন্য জলের ট্যাংক। এইতো আধুনিক আদিবাসী সমাজ। কিন্তু কেমন ছিল প্রাচীন সে সমাজ? ঐ বিজয়ী যুবককে দেখে কি কোনো যুবতীর বুক কাঁপছিল? অথবা সমবয়সি অন্য যুবকের ঈর্ষার আগুনে বিদ্ধ হচ্ছিল তার হৃদয়! কেমন ছিল অপরাধ, শাস্তি, শান্তি, প্রেম, ভালোবাসা মিলিয়ে মি(জাতি) জো (পাহাড়) রাম (ভূমি)?
রেইক ভিলেজ থেকে ফেরার পথে বড়োদিনের মিজোরামকে একটু অন্য ভাবেও দেখলাম।আসলে এখানে প্রকৃতি প্রেমময়, সবুজ যৌবনের হাতছানি অসীম। বড়োদিনের দুপুর হতেই নির্জনে নিভৃতে যুবক-যুবতির একান্ত যাপন হঠাৎ করে বাঙালির ভ্যালেন্টাইন ডে সরস্বতী পুজোর কথা মনে করিয়ে দেয়। পথের বাঁকে বাঁকে সরকারী সচেতনতার বোর্ডে একেবারে অন্য বার্তা নজরে আসে--‘’use comdom”. আমি যেটুকু দেখলাম আজকের মিজো মানুষগুলো বেশ ভালো, অতিথিপরায়ণ,মিশুকে।
বিঃদ্রঃ
উড়ো পথে কোলকাতা থেকে লেংপুই এয়ারপোর্ট পৌঁছাতে সময় লাগে কমবেশি একঘন্টা পনেরো মিনিট। লেংপুই থেকে গাড়ি যায় আইজল। সময় লাগে একঘন্টা।
এছাড়া ট্রেনে গোহাটি পৌঁছে ওখান থেকে বাসে পৌঁছানো যায় আইজল। তবে সেই রাস্তা খুব কষ্টকর ও সময় সাপেক্ষ।
এখানে উন্নতমানের ভালো হোটেল আছে। আছে chaltlang tourist lodge, berawtlang cottage, government guest house.
গাড়িভাড়া ও হোটেল এখানে বেশ ব্যয়বহুল
প্রথম পর্ব...... 👇
https://www.blogger.com/blog/post/edit/4154231247512337095/8644491017997076530
Sunday, 15 August 2021
refreshing green view of mizoram (পাহাড়ি জাতির ভূমি, মিজোরাম তুমি)
পাহাড়ি জাতির ভূমি মিজোরাম তুমি-- {refreshing green view of mizoram }
![]() |
| সাধারণ মিজোবাড়ি |
| হোটেল অরিনি |
@রুমকি রায় দত্ত
refreshing green view of mizoram
Saturday, 7 August 2021
the hidden agenda of veg chanadal recipe নিরামিষ চানাছানা
শনিবারের স্বাদ
নিরামিষ মানেই গৃহিণীদের কপালে ভাঁজ। বিশেষ করে বাঙালি পরিবারে মাছ ছাড়া চলেই না যেন। হাঁড়িতে একমুঠো কম চাল নেওয়ার দিন। সেইসব গৃহিণীদের জন্য মজাদার “নিরামিষ চানাছানা” বাড়িতে থাকা সামান্য উপকরণেই বাজিমাত।
নিরামিষ চানাছানা(chanadal recipe):
উপকরণঃ
এককাপ ছোলার ডাল/ পঞ্চাশগ্রাম ছানা/ ক্যাপসিকাম / টমেটো ১টা পেস্ট করা / ১ চামচ জিরে গুঁড়ো/ ১ চামচ ধনে গুঁড়ো/হলুদ/ শুকনো লংকা ২টো/ আদা/ গোটা গরম মশলা--- হাফ ইঞ্চি দারচিনি, ২টো এলাচ.২টো লবঙ্গ / তেজপাতা ২টো/ গোটাজিরে ফোড়নের মতো/ ঘি / কিশমিশ / ডুমো করে কাটা আলু / গুঁড়ো গরমমশলা।
প্রণালীঃ
পর্ব ১ঃ তেল গরম হলে কেটেরাখা আলু ভেজে নিয়ে তুলে রাখতে হবে।
পর্ব ২ঃ তেলে তেজপাতা,গোটাজিরে,গোটা গরম মশলা,শুকনো লংকা, ফোড়ন দিতে হবে। হালকা গন্ধ বেরোলে, সামান্য হাফ চামচ চিনি তেলে দিয়ে, ওতে টমেটো পিউরিটা দিয়ে কিছুক্ষণ কষাতে হবে।
পর্ব ৩ঃ মশলা হাফমজা হলে,ক্যাপসিকাম ও বাকি সমস্ত মশলা দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কষাতে হবে মশলাটাকে। তেল ছেড়ে এলে ওর সাথে ভাজা আলু আর আগে থেকে ভিজানো ছোলার ডালটা দিয়ে আরও বেশ খানিকক্ষণ কষাতে হবে। তেল ভালোমতো বেরিয়ে এলে,ওর মধ্যে ছানাটা যোগ করে সামান্য নাড়াচাড়া করার পর প্রয়োজন মতো জল দিয়ে ঢাকা দিতে হবে। মিনিট কয়েক পর, প্রায় ঘন থকথকে হলে রান্না প্রস্তুত। নামানোর ঠিক আগে এক টেবিল চামচ ঘি ও গরম মশলা ছড়িয়ে একটু নেড়ে মিশিয়ে দিতে হবে।
![]() |
| নিরামিষ চানাছানা veg chanadal recipe |
প্রস্তুত মজাদার চানাছানা। বাড়িতে থাকলে একচামচ
পরিমান বাসিল পাতা ছড়িয়ে ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে। তারপর গরম গরম পরিবেশন। খাবার টেবিলে
ঢাকনা খুললেই গন্ধে জিভে জল।
Wednesday, 28 July 2021
আমফান— আমের তৈরি মিষ্টান্নdelicious mango dessert mabe by milk meta
আমফান—আমের তৈরি মিষ্টান্ন
রুমকি রায় দত্ত
মুর্শিদাবাদের নবাবের আমপ্রিয়তার কথা কে, না-জানে। তিনি নাকি সারাবছর আম খেতেন। বিস্তীর্ণ বাগানজুড়ে আমগাছে রাশি রাশি আমের ফলন। সুস্বাদু রসালো সেই আম সংরক্ষণ করা থাকত পিপে ভর্তি ঘিয়ের পাত্রে ডুবিয়ে। ঘি ভালো সংরক্ষক। মহাভারতে গান্ধারীর অপরিণত গর্ভের ১০১টি মাংস পিণ্ড দুইবছর ধরে সংরক্ষিত ছিল ঘিয়ের পাত্রে।
কিন্তু বর্তমান সময়ে সারাবছর আমের স্বাদ পাওয়ার জন্য আর ঘিয়ের প্রয়োজন নেই।
এখন কোল্ড স্টোরে সংরক্ষিত আম সারাবছর-ই বাজারে মেলে। তাই আমফানের স্বাদ নিতে গ্রীষ্মের
অপেক্ষারও প্রয়োজন নেই।
আজ রইল ফলের রাজা আমের তৈরি সুস্বাদু ডেজার্ট #আমফান
" /> |
| আমফান--আমের মজা |
- উপকরণঃ ১০০গ্রাম গোবিন্দভোগ চাল, ১লিটার দুধ, একমুঠো রোস্টেড সিমুই, তিনটি পাকা ল্যাংড়া আমের পাল্প ( সুগন্ধী যে কোনও আম ব্যবহার করা যেতে পারে), মিহি কাটা আমন্ড ও কাজু বাদাম, বড়ো দু-চামচ ঘি, চিনি পাউডার ( দানাও চলবে), ৫০ গ্রাম খোয়া (ক্ষীর) অবর্তমানে ৫০০লি দুধ ঘন করেও বাড়িতে করা ক্ষীর চলবে। একচিমটে কেসর।
- প্রণালীঃ
- পর্ব ১ ঃ চাল জলে ধুয়ে আধঘন্টা রেখে জল শুকিয়ে মিক্সিতে গুঁড়ো করে নিতে হবে। দানাদার হতে হবে। মিহি হলে চলবে না।
- পর্ব ২ ঃ কড়াই-তে ঘি দিয়ে,গুঁড়ো চাল আর সিমুই হালকা নেড়ে নিতে হবে। এবার আগে থেকে ফুটিয়ে রাখা এক লিটার দুধ ঐ মিশ্রণে একটু একটু করে মেশাতে হবে আর ক্রমাগত নাড়তে হবে, যাতে চাল দলাপেকে না যায়। মিশ্রণটি নাড়তে নাড়তেই ওর মধ্যে খোয়া গ্রেট করে মিশিয়ে দিতে হবে ও নাড়তে হবে। বেশ কিছুটা থকথকে ঘন ভাব হলে স্বাদমতো চিনি ওতে যুক্ত করতে হবে।
- পর্ব ৩ ঃ নামানোর ২ মিনিট আগে মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে, আগে থেকে তৈরি রাখা পাকা আমের পাল্প ঐ মিশ্রণে দিয়ে হালকা হাতে দু-মিনিট নেড়ে নিতে হবে।
- পর্ব ৪ ঃ নামানোর আগে ভেজা আঙুলের ডগায় লেগে থাকা পরিমাণ লবন ঐ মিশ্রণে মিশিয়ে, উপরে কেশর আর আমন্ড, কাজু কুচি ছড়িয়ে ঠান্ডা হতে দিন। ফ্রিজে ঘন্টাখানেক রেখে খেলে স্বাদ ভালো বোঝা যাবে।
![]() |
| সুস্বাদু ডেজার্ট আমফান |
বাড়িতে অতিথি আসুক বা স্পেশাল দিন--- খাবার
শেষে মিষ্টিমুখে আমের তুলনা নেই।
Friday, 23 July 2021
weekend tour ofbit destination e
সবুজ সুন্দরী বনলতা
রুমকি রায় দত্ত
জ্যৈষ্ঠের
শেষ সপ্তাহ চলছে। গরম আর রৌদ্রতাপে নাজেহাল অবস্থা,এমনই এক সন্ধ্যা লগ্নে কত্তা
অফিস থেকে ফিরেই প্রস্তাব রাখলেন, ‘ ১০ই জুন তো আসছে, বনলতা যাবে নাকি?’ বনলতা!
নামটা শুনেই চমকে উঠলাম। বনলতা শুনলেই নাটরের বনলতা সেনের কথা মনে হয়। এই নামের
কোনো ঘুরতে যাওয়ার জায়গা আছে বলে তো জানা নেই। বিস্মিত হয়ে বললাম, বনলতা! সেটা
আবার কি?
কত্তা
বললেন, বাঁকুড়াতে একটা জায়গা আছে। নেটে বনলতা লিখে সার্চ করো দেখতে পাবে’।
| সুন্দরী বনলতা |
একে তো এই গরম, তাতে বাঁকুড়া। কিন্তু সুযোগ বারবার আসে না, যেখানেই হোক, ঘুরতে যাওয়া নিয়ে কথা। নেটে সার্চ করতেই ভেসে উঠল বনলতা নামে একটা সুদৃশ্য গ্রাম্য পরিবেশের ছবি। পুরোটাই নাকি একটা হোটেল। মনে মনে ভাবলাম, শীতকাল হলে এমন পরিবেশে গায়ে রোদ লাগিয়ে বেশ ঘুরে বেড়ানো যেত, কিন্তু এই গরমে সেটা তো সম্ভব নয়,শুধু ঐ হোটেলে থাকার জন্য যাব? আসে পাশে কি কিছুই নেই আর দেখার? আরে, আছে তো, ম্যাপ খুলতেই দেখতে পেলাম জায়গাটা আসলে বাঁকুড়া জয়পুর ফরেস্টের গায়ে লাগা। জঙ্গল যখন আছে তখন আর না বলার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
তল্পি উঠিয়ে চললাম জয়পুর,বনলতা আমরা দুটি পরিবার। বর্ধমান থেকে গাড়িতে যেতে সময় লাগল আড়াই ঘন্টা মতো।পৌঁছালাম যখন, তখন ঘড়িতে সাড়ে এগারোটা বাজে। বনলতার বিস্তীর্ণ এলাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরণের থাকার জায়গা আছে। আমাদের যে ঘর দেওয়া হল, সেগুলি জোড়া কটেজের মতো। নয়,দশ নাম্বার আমাদের। এরকম পাঁচখানা জোড়া কটেজ। সামনে সাজানো বাগান,তার ঠিক গা ঘেঁষে সুন্দর একটা পুকুর। কটেজের ঠিক পিছনেই শুরু হয়েছে ঘন শালের জঙ্গল। যখন পোঁছালাম, বাইরে তখন চকচকে রোদ।
ওখানে পৌঁছাতেই একটি মাঝ বয়সি স্থানীয়
মহিলা এসে বলল, ‘আমার নাম অষ্টমী, আপনাদের যা দরকার লাগবে, চা,জল,দারু.... আমাকে
বলবেন, আমি এনে দেব’। মেয়েটি চলে যেতে আমরা ব্যাগ রেখে সামনের চাতালে রাখা কাঠের
ডাইনিং টেবলে এসে বসলাম। চায়ের সাথে আড্ডাটা তখন বেশ জমে উঠেছে হঠাৎ দেখলাম, একটা
কালো মেঘের দলা ধীরে ধীরে যেন ছেঁয়ে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে ম্লান হয়ে যাচ্ছে চকচকে রোদ। ময়ূরের মত পেখম
তুলে নাচতে ইচ্ছা হল মেঘ দেখে। সত্যি বলতে ভীষণ মনে মনে বৃষ্টি চাইছিলাম, চাইছিলাম
এমন সুন্দর গ্রাম্য পরিবেশে একটু বৃষ্টিতে ভিজতে। সেটা যে এভাবে এত তাড়াতাড়ি পূর্ণ
হবে ভাবতেই পারিনি। শুরু হল টিপটিপ বৃষ্টি। আমরা দলবেঁধে চারজন সেই বৃষ্টি মাথায়
নিয়ে হাঁটতে লাগলাম বনলতার বিস্তীর্ণ এলাকা। সত্যিই অপূর্ব জায়গা। সবুজ ভেজা ঘাসের
লনে পা রেখে বৃষ্টি ভেজার স্বাদই আলাদা। বেশ অনেকটা সময় কেটে গেল এভাবে। প্রায়
সাড়ে বারোটার দিকে নিজেদের কটেজের দিকে ফিরতে ফিরতে হঠাৎ চোখ গেল একটা লালমাটির
সরু রাস্তার দিকে। রাস্তাটা বনলতার মাঝ দিয়ে গেলেও আসলে রাস্তাটা সরকারি। এমন অজানা
পথ চিরকালই মনকে টেনে নেয় তার দিকে। এবারেও তার ব্যতিক্রম হল না। সুমন্ত কটেজে
ফিরে যেতেই আমরা চারজন বৃষ্টির মধ্যেই হাঁটা লাগালাম সেই পথে। মাথার উপর তখন ক্রমশ
কালো মেঘ জমে চলেছে। রাস্তাটার দু’পাশে জঙ্গল। ডানদিকে আমবাগান। কোথায় গিয়ে শেষ এই
রাস্তার কোনো ঠিক নেই। লাল মাটির কাদায় বারবার আটকে যাচ্ছে জুতো। দূরে একটা চকচকে
সবুজ বাঁশ গাছের ঝাড় দেখা যাচ্ছে। আর ঠিক যেন তার পিছন থেকেই উঠে আসছে কালো মেঘ আর
মাঝে মাঝে শব্দহীন আলোর ঝলকানি। এগিয়ে চলেছি আমরা ঐ বাঁশ ঝাড়কে লক্ষ্য করে, হঠাৎ
বিকট বাজ পড়ার আওয়াজে চমকে দাঁড়িয়ে পড়লাম আমরা। না, আকাশের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়ে
আসছে।আর এগোতে একটু ভয় পেলাম। লালমাটিতে চটি চটাস চটাস করতে করতে ফিরে এলাম কটেজে।
সারাদিন ধরে চলল অঝোর ধারার বৃষ্টি। সামনে পুকুরের বুকে বৃষ্টির ফোঁটার টুপটাপ
নাচ।
| নির্জন লালমাটির রাস্তা |
বনলতায়
ঢোকার মুখেই দেখেছিলাম সামনে বেশ কয়েকটি খাবার দোকান আছে। ঠিক বিকালে ছাতা মাথায়
বেরিয়ে এলাম বাইরে। গরম ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে বৃষ্টির ফোঁটা ফেলে চা-আড্ডার মজাই
আলাদা। দেখলাম রাস্তার ওপাশে একটু এগোলেই ফরেস্ট অফিস। সবাইকে হোটেলে পাঠিয়ে আমি আর
মণিদীপা পায়ে পায়ে সেই পথে হাঁটতে লাগলাম। একটা বিশাল বড় লোহার গেট। ভিতর থেকে
তালা ঝুলছে। একজনের কাছে জানতে পারলাম রেঞ্জারের সাথে দেখা করতে হলে আরেকটু এগিয়ে
যেতে হবে। কিছুটা এগিয়ে বাঁয়ে একটা ছোট্ট গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম। কেউ কোথাও
নেই! একটা আবছা অন্ধকারের আস্তরণ ছড়িয়ে আছে চারপাশের পরিবেশে। একটু দূরে একটা
বৃদ্ধ একটা গাছতলায় বসে আছে। তিনিই আমাদের নিয়ে গেলেন রেঞ্জারের সাথে দেখা করার
জন্য। জানতে চাইলাম,
জঙ্গলে চোরা
শিকারি আসে? কাঠ চুরি হয়?
তিনি মাথা
নেড়ে জানালেন, না।
তবে যে
দেখলাম জঙ্গলের মাঝে মাঝে বেশ মোটা মোটা সাল গাছের কাটা গুঁড়ি!
তিনি বললেন,
ওগুলো আমরাই কেটেছি। ঐ কাটা অংশ থেকে আবার ট্যাগ বেরবে। ওর মধ্যে সবথেকে ভালো টা
রেখে বাকি গুলো আবার কেটে দেবেন তারা। বছর দশেকের মধ্যেই আবার বড় শালগাছ হয়ে যাবে।
আর সত্যিই
কি হরিণ আছে?
তিনি বললেন
নিশ্চয় আছে। দু’দিন আগেই একটা পূর্ণবয়স্ক হরিণ রাস্তার ট্রাকের ধাক্কা খেয়েছিল।
ডাক্তার এসে দু’দিন ধরে সেবা করে সুস্থ করেছিল তাকে। সকালেই নাকি যে লোকটা ওকে
খেতে দিত, তাকে ধাক্কা মেরে পালিয়ে গিয়েছে। আর হাতি? হ্যাঁ, হাতিও এখানে আসে
দলবেঁধে। পাশের জঙ্গলে প্রায় একমাস ধরে একটা দল আস্তানা গেড়েছে। যে কোনো দিন চলে
আসবে। জঙ্গলের পাশে রাস্তার অপর দিকে সকালেই দেখেছি বিশালবড় একটা আমবাগান। রেঞ্জার
জানালেন এখন ওরা এলেই ঐ আমবাগানে হানা দেবে। হাতি, হরিণ,শালবন এদের নিয়ে গল্পের
মাঝে কখন যেন সন্ধেটা নেমে গিয়েছে বুঝতেই পারিনি। বেরিয়ে এলাম ফরেস্ট অফিস থেকে।
বড় রাস্তা বেশ নির্জন। পাশ দিয়ে হুশহাশ ছুটে যাচ্ছে ট্রাক। বছর দশেক আগেও এইখানে
ডাকাতি হয়েছে, সে কথা মনে আসতেই বেশ ছমছম করে উঠল গা টা। দ্রুত পা চালিয়ে ফিরে
এলাম।
সামনের
চাতালে বসেই দেখতে লাগলাম বৃষ্টি মাথায় নিয়েও বনলতার কর্মীদের কর্মব্যস্ততা। সন্ধের
দিকে টিপটিপ বৃষ্টিতে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে গল্প জুড়লাম অষ্টমীদি’র সাথে। জানলাম
বনলতা কিভাবে একটা অঞ্চলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে রেখেছে। প্রায় চারশো কর্মচারীর
সবাই এই অঞ্চলের দরিদ্র গ্রামবাসী। যার কোথাও কাজ জোটে না, বনলতার মালিক ঠিক খুঁজে
একটা না একটা কাজে ঢুকিয়ে দেয় তাদের। ‘পরনের কাপড়, দু’বেলা মাছভাত... আর কি চাওয়া বলো আমাদের?’ .... বলে ওঠে অষ্টমীদি। বনলতার সবজি, মাছ সব খাঁটি। এরা নিজেরাই চাষ
করে। কিছু মানুষ শালপাতার থালা তৈরি করে দিয়ে যায় হোটেলে। অতিথিদের সেই পাতাতেই
খেতে দেওয়া হয়।
পুকুরের ধারে ধারে জ্বালানো আলোকস্তম্ভের গা
বেয়ে নেমে যাওয়া বৃষ্টধারা দেখতে দেখতে কিভবে যেন রাত গড়াতে থাকে।
একটা
পুরোদিন কেটে যায় বনলতায়। সকাল থেকে আলিস্য গায়ে মাখা ছাড়া আর তো কোনো কাজ নেই
আমাদের। একটু বেলায় একটা টোটো ঠিক করে বেরিয়ে পড়লাম জঙ্গলের পথে। আগের দিন ঠিক
সন্ধের আগে একবার গাড়িতে গিয়েছিলাম এই পথে। মাঝে শুয়ে কালো মসৃণ রাস্তা আর দু’ধারে
ঘন সবুজ প্রাকৃতিক শালবন। এখানে নাকি প্রায় হরিণ দেখা যায়। টোটো সড়ক পথে ছেড়ে
ডানদিকে জঙ্গলের মধ্যে যাওয়ার সরু লালমাটির রাস্তা ধরল। কি অপূর্ব সে পথের
শোভা। না, বারবার মনে হবে এ কোনো বাস্তর নয়, পটে আঁকা ছবি মাত্র, কিন্তু এই প্রকৃতি
সত্যিই বাস্তব। মাঝে লালমাটির রাস্তা শুয়ে, দু’ধারে সবুজ শালের সারি। আমরা ক্রমশ
এলোমেলো ঘুরে বেড়াচ্ছি জঙ্গলের মাঝে। এই মাঝ দুপুরে হরিণ যে চোখে পড়বে না, সে তো
জানা কথা,তবু চোখ কিছু অজানা খুঁজে চলেছে। পথের দু’ধারে পড়ে আছে মহুয়াফল। তাই নিয়ে
ব্যাগে ভরলাম। টোটোর ছেলেটি বলল, এই ফলগুলো ভেজে খেতে নাকি খুব ভালো লাগে। কি জানি কেমন লাগে,শেষ পর্যন্ত
খাওয়া হয়নি।
| সালবনে মেঠোপথ |
দুটো দিন কোথা দিয়ে যেন ছুটে চলে গেল। রাত পোহালেই ফেরার সূর্য দেখা দেবে। সন্ধে থেকেই সবাই বাইরের চেয়ার-টেবিলে বসে আড্ডায় মেতে উঠলাম। তারিখটা ১০ই জুন, আমার জন্মদিন। একটা একেবারে অন্যরকমের জন্মদিন।প্রথমবার মোমবাতিতে ফুঁ দিয়ে কেক কাটা। জীবনের একটা দিন স্মরণীয় করে তুলল সুমন্ত আর মণিদীপা। ওরাই তো চুপিসারে সব আয়োজন করেছিল।
পরদিন খুব
ভোরে উঠে পড়লাম। ফেরার ঘন্টা বেজে গিয়েছে,কিন্তু তখনও একটা পথের শেষের রহস্য
উন্মোচন বাকি। সেই পথ, যে পথে বৃষ্টিতে হেঁটেছিলাম। বেরিয়ে পড়লাম দুজনে। লাল
মাটিতে পায়ের চিহ্ন আঁকতে আঁকতে হেঁটে চললাম পথের শেষ খুঁজতে। একটা রাঙামাটির
আঁকাবাঁকা পথের শেষে দেখা পেলাম বিশালবড় একটা জলাশয়ের। ঘাটে বাঁধা একটা নৌকা। শীতের
সময় অনেক লোকজন আসে,তখন এই জলাশয়ের বুকে বোটিং করা যায়। ঝোঁপের পিছন থেকে ধীরে
ধীরে লাল সূর্যটা উপরে উঠে আসছে।
আঁকাবাঁকা প্রতিবিম্ব খেলা করছে জলে। আমরা চেয়ে আছি অবাক চোখে।একই ছবি কতবার
দেখেছি, কিন্তু প্রতিবার নতুন লাগে। চেনা প্রকৃতি প্রতিদিন নতুন রূপে এসে দাঁড়ায়
আমাদের সামনে। নাহ্, আর সময় নেই। ঘড়ি বলচে বাড়ি ফিরতে হবে। যে আসে তাকে যেতেই
হয়। এটাই তো জীবনের অমোঘ সত্য। যেতে হয় কখনও দেশ থেকে দেশান্তরে বা শহর থেকে অন্য
শহরে।
Friday, 4 June 2021
কিকিরুরু
কিকিরুরু
কিকিরুরু... কিকিরুরু। কিছুক্ষণ থেমে আবার। সোনাঝুরি আর শিরীষের. বন ঘুরে তরঙ্গের মতো শব্দটা ছড়িয়ে পড়ছে। চোখদুটো চঞ্চল হয়ে উঠছে আমার।
খুঁজছি, কে ডাকে অমন করে? আমি যেন দিনে দিনে কেমন পক্ষীবিশারদ হয়ে উঠছি। কোন পাখি কখন কী সুরে ডাকে সব জানি, কিন্তু এ ডাকটা অদ্ভুত তো! অচেনা! কে ও? আমি মনে মনে উচ্চারণ করলে ভারি মিষ্টি লাগছে, কিন্তু পাখির স্বর তীক্ষ্মধার।
পাতার ফাঁকে শক্ত, দীর্ঘ কমলা রঙের ঠোঁট। ডানায় ময়ূরের কন্ঠ রং, বুকের কাছে সাদা।
আমি বললাম, "ও... তোর নাম তো মাছরাঙা।"
সে তখন উঁচু ডালে বসে ঘাড় কাত করে তাকিয়ে নীচের জমা জলে।
অস্বচ্ছ কাদাঘোলা জলে পা ডুবিয়ে নীচু হয়ে মাছ অথবা গুগলি খুঁজছে মেয়েটি। পরনে একটা ছোটো ইজের।
মাছরাঙাটা ওর দিকে তাকিয়ে কিকিরুরু ডাকছে।
আচ্ছা, কিকিরুরু মানে কি প্রতিদ্বন্দ্বী?
রুমকি রায় দত্ত
Wednesday, 23 September 2020
ভাদো আইল রে
ঐ যে। ঐ পোটলাটা, ওটার মধ্যে কী আছে? ভাদো
আছে গো...ভাদো! পুরো একটা বছর ধরে ওটার মধ্যে ভাদো রাখা আছে। ভাদোর একটা নিজস্ব মানে
আছে। ভাদো মানেই রহস্য! ভাদো মানে পুরোনো স্মৃতি আবিষ্কারের আনন্দ! ভাদো মানে প্রকৃতির
জাগরণ। বর্ষা গেলেই পোটলা খুলে বাইরে আনতে হয় ভাদোকে। শ্রাবণ যায়,ভাদো আসে। মেঘের ভেলায়
চেপে ভাদো আসে। সঙ্গে আনে মুঠো মুঠো সোনালি রোদ্দুর, ঘন নীল আকাশ! পোটলা খুলে ভাদোকে
আদর করে কোলে তুলে নিতে হয়। ভাদোর গায়ে তখন ভারি শ্যাওলাধরা গন্ধ! ছাতারে গন্ধ! ভাদোকে
তখন রোদে সেঁকে শিউলিগন্ধ বাতাস দিয়ে স্নান করাতে হয়। সাদা কাশের চামর দিয়ে বাতাস দিতে
হয়। দু’গাছি কচি ধানের শিষ দাঁতে কেটে ভাদো পিঁড়িতে বসে শুরু করে গল্প।
মাঝে মাঝে সুখের স্মৃতিগুলো ভুলে যেতে হয়।
ছেলে বেলার স্মৃতি গুলো ভাদোর মতো পোটলায় ভরে,একটু ন্যাপথালিন দিয়ে গুটিয়ে রেখে দিয়ে,
তারপর ভুলে যেতে হয়। দীর্ঘদিন সুখ-যাপনে,সুখের উপর নোনা ধরে,জিভের উপর জমা সাদা আস্তরণের
মতো। ভুলে যেতে হয়, কারণ- পুরোনো জামা-কাপড়ের মতো,পুরোনো স্মৃতি গুলো নতুন করে আবিষ্কারের
সুযোগ দিতে হয় নিজেকে। আবিষ্কারের যেমন নানা দিক, তেমনি আনন্দটাও তো ভিন্ন। পুরোনো
আবিষ্কারের আনন্দটায় একটা অদ্ভুত মাতাল করা নেশা আছে। ন্যাপথালিনের তুলতুলে গন্ধ পুরোনোর
ভাঁজে ভাঁজে রহস্যের নেশা জাগায়!কখনও কখনও পুরোনো আবিষ্কার নতুনের থেকেও মোহময়ী! কোনও
ভাঙা দুর্গের প্রাচীরের আড়ালে থাকা পুরোনো অথবা মাটির স্তরের নীচে প্রাচীন সভত্যার
স্মৃতিমাখা পুরোনো অথবা আলমারির কোণে স্মৃতির স্তর বুকে নিয়ে জমে থাকা পুরোনো,সে যাইহোক...সব
পুরোনই আসলে আবিষ্কারের নেশা জাগায়।
ভাদো এলেই ঘর আর প্রকৃতির সমস্ত রহস্যময় স্থানেই
যেন আলো ঢুকে রহস্য উন্মোচন করে। বন্দরের দাঁড়ানো রহস্যময় জাহাজের মতো আলমারিটা পাল্লা
দুটো হাট করে খোলা। একে একে বেরিয়ে আসে জামা-কাপড়! তারই মাঝে নতুন করে পুরোনো আবিষ্কারের
নেশা। বিশ বা তিরিশ বছর আগের পুরনো, নরম হয়ে যাওয়া বেনারসি আর নকশা ধুতির দাম্পত্য
দেখে, ন্যাপথালিন মাখা মিষ্টি-মেদুর স্মৃতির
ছাতার নীচে দু’দন্ড জিরিয়ে নেওয়া। সযত্নে একমুঠো ভাদুরে রোদের ছোঁয়াতে স্মৃতির আয়ু
বেড়ে যায় আরোও। আবার একটা বছর পর বেরিয়ে আসবে সবাই।ছড়াবে স্মৃতির সেই পুরোনো উষ্ণতা!
নতুন ভাদো কথা কবে বিগত ভাদোর সাথে।দাঁতে তার একগুচ্ছ কচি ধানের শিষ।
Monday, 13 May 2019
অন্তরে বিম্বিতঃ
জীবন কীভাবে? কখন নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নেই, আমরা বুঝতেই পারি না। কখনও কখনও এমন হয় না? হঠাৎ হঠাৎ আমরা বিভ্রান্ত হয়ে উঠি? মনে হয় জীবনটা এবার থমকে গেল! একটা কোনো ঘটনা জীবনে তুমুল আলোড়ন তুলল। হয় না এমন?
এই আলোড়নই আসলে জীবনের তারজালি। জীবনের সাথে মিশে থাকা যা,কিছু ভেজাল। যা কিছু নোংরা, ঢেলা সব আটকা পড়ে সামনে চলে আসে। আর আমরা ঝরঝরে পরিশুদ্ধ হয়ে একধাপ সামনে এগোই। আবার পথচলা শুরু হয়। সঞ্চয় হয় আরও শত শত নোংরা। আবার একদিন জীবনে ঝড় ওঠে, সৃষ্টি হয় আলোড়নের...তবু থামা নয়। জীবন বাড়ি গড়তে হলে ইটের পর ইট এভাবেই গেঁথে যেতে হবে।
এটাই জীবন,এটাই পথচলা।





" />