শনিবারের চিঠি ভাণ্ডার
"পুন্তো পারো জিন্তো হারো
মিস্তা নারো বিস্তাসাৎ
লেঙ্গু প্রোষ জিয়ং ট্রোষ
দিঙ্গা ভোস মিস্তা বাং!
তোক্কাতারো তোক্কাতারো তোক্কাতারো তি।"
এই ছন্দবদ্ধ লেখটি অর্থহীন নয়, এটি পাঠ এত সুখকর ও আনন্দময় যে, গতকাল আমি যেই মুহূর্তে লেখাটি উদ্ধার করলাম আশ্চর্য শিহরণ হল।
এটি অতীত রাশিয়ার একটি পুরোনো উপভাষা" কামস্কাট"
আশ্চর্য এই ভাষার মাধুর্য্য! এই ভাষার ছাঁদ এমনই যে সাধারণ কথার উপর কথা বলেই অপূর্ব শ্রুতি সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়।
তার থেকেও বড়ো কথা কামাস্কাটীয়রা আশ্চর্য এক ইন্দ্রিয়াতীত জগতের কাব্য ভাবনার মধ্যেই বোধহয় বাস করেন।
এমনই এক সাধারণ কামস্কাট দশ বছরের বালিকা আয়নার সামনে চুল বাঁধতে বসে এই ছন্দময় ভাবনার জন্ম দিয়েছে।
উপরের কবিতাটি আসলে এই বালিকার ভাবনা, যার প্রকৃত অর্থ—
" যে নাগিণী সম্প্রদায় কোন অজানিত বিবর হইতে বাহির হইয়া আমার মাথায় বাসা বাঁধিয়াছে, হে আমার কবরী, তুমি তাহাদিগকে বন্ধন করিতেছ, তুমি কম নও। আমি বারবার তোমার জয় ঘোষণা করিতেছি।"
অসাধারণ এক ভাবনা!
আধুনিক কামস্কাটকীয় ছন্দের সঙ্গে রবীন্দ্র-পরবর্তী আধুনিক বাংলা কবিতার বেশ মিল পাওয়া যায়। শনিবারের চিঠিতে তার প্রয়োগ সজনীকান্তের লেখায় বারবার উঠে আসে, যদিও প্রকৃত কামস্কাটের গভীর ভাবনার বদলে, সজনীকান্ত ব্যঙ্গ শব্দ প্রয়োগ করে ব্যাঙ্গাত্মক ভাবের জন্ম দেন।
এই ছন্দের শ্রষ্ঠা ছিলেন কবি মিলাং।
তবে আধুনিক কবিতায় ওরল্যাংহো বিশেষ উল্লেখযোগ্য। যদিও তাঁর সমস্ত সৃষ্টি একসময় নষ্ট করে দেওয়া হয়, কিন্তু কিছু কবিতা ও কাব্যার সামান্য অংশ পরে খুঁজে পাওয়া যায়। ব্লাডিভোস্ট, কামস্কাটদের যুদ্ধে পরাজিত করার পর এই কবির সব সৃষ্টি ধ্বংস করে দেয়।
বি. দ্র: সেসময় দুইজন বাঙালি কবি সেখানে এতটাই জনপ্রিয় ছিলেন যে, তাঁদের নামের উপাধি দিয়ে একটি ক্লাব স্থাপিত হয় সেখানে—"রায়-সরকার" (বিনয় কুমার রায় ও দিলীপ কুমার সরকার)