Translate

Showing posts with label জোনাকির জানালা. Show all posts
Showing posts with label জোনাকির জানালা. Show all posts

Wednesday, 23 September 2020

ভাদো আইল রে

  

ঐ যে। ঐ পোটলাটা, ওটার মধ্যে কী আছে? ভাদো আছে গো...ভাদো! পুরো একটা বছর ধরে ওটার মধ্যে ভাদো রাখা আছে। ভাদোর একটা নিজস্ব মানে আছে। ভাদো মানেই রহস্য! ভাদো মানে পুরোনো স্মৃতি আবিষ্কারের আনন্দ! ভাদো মানে প্রকৃতির জাগরণ। বর্ষা গেলেই পোটলা খুলে বাইরে আনতে হয় ভাদোকে। শ্রাবণ যায়,ভাদো আসে। মেঘের ভেলায় চেপে ভাদো আসে। সঙ্গে আনে মুঠো মুঠো সোনালি রোদ্দুর, ঘন নীল আকাশ! পোটলা খুলে ভাদোকে আদর করে কোলে তুলে নিতে হয়। ভাদোর গায়ে তখন ভারি শ্যাওলাধরা গন্ধ! ছাতারে গন্ধ! ভাদোকে তখন রোদে সেঁকে শিউলিগন্ধ বাতাস দিয়ে স্নান করাতে হয়। সাদা কাশের চামর দিয়ে বাতাস দিতে হয়। দু’গাছি কচি ধানের শিষ দাঁতে কেটে ভাদো পিঁড়িতে বসে শুরু করে গল্প।

মাঝে মাঝে সুখের স্মৃতিগুলো ভুলে যেতে হয়। ছেলে বেলার স্মৃতি গুলো ভাদোর মতো পোটলায় ভরে,একটু ন্যাপথালিন দিয়ে গুটিয়ে রেখে দিয়ে, তারপর ভুলে যেতে হয়। দীর্ঘদিন সুখ-যাপনে,সুখের উপর নোনা ধরে,জিভের উপর জমা সাদা আস্তরণের মতো। ভুলে যেতে হয়, কারণ- পুরোনো জামা-কাপড়ের মতো,পুরোনো স্মৃতি গুলো নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ দিতে হয় নিজেকে। আবিষ্কারের যেমন নানা দিক, তেমনি আনন্দটাও তো ভিন্ন। পুরোনো আবিষ্কারের আনন্দটায় একটা অদ্ভুত মাতাল করা নেশা আছে। ন্যাপথালিনের তুলতুলে গন্ধ পুরোনোর ভাঁজে ভাঁজে রহস্যের নেশা জাগায়!কখনও কখনও পুরোনো আবিষ্কার নতুনের থেকেও মোহময়ী! কোনও ভাঙা দুর্গের প্রাচীরের আড়ালে থাকা পুরোনো অথবা মাটির স্তরের নীচে প্রাচীন সভত্যার স্মৃতিমাখা পুরোনো অথবা আলমারির কোণে স্মৃতির স্তর বুকে নিয়ে জমে থাকা পুরোনো,সে যাইহোক...সব পুরোনই আসলে আবিষ্কারের নেশা জাগায়।   

ভাদো এলেই ঘর আর প্রকৃতির সমস্ত রহস্যময় স্থানেই যেন আলো ঢুকে রহস্য উন্মোচন করে। বন্দরের দাঁড়ানো রহস্যময় জাহাজের মতো আলমারিটা পাল্লা দুটো হাট করে খোলা। একে একে বেরিয়ে আসে জামা-কাপড়! তারই মাঝে নতুন করে পুরোনো আবিষ্কারের নেশা। বিশ বা তিরিশ বছর আগের পুরনো, নরম হয়ে যাওয়া বেনারসি আর নকশা ধুতির দাম্পত্য দেখে,  ন্যাপথালিন মাখা মিষ্টি-মেদুর স্মৃতির ছাতার নীচে দু’দন্ড জিরিয়ে নেওয়া। সযত্নে একমুঠো ভাদুরে রোদের ছোঁয়াতে স্মৃতির আয়ু বেড়ে যায় আরোও। আবার একটা বছর পর বেরিয়ে আসবে সবাই।ছড়াবে স্মৃতির সেই পুরোনো উষ্ণতা! নতুন ভাদো কথা কবে বিগত ভাদোর সাথে।দাঁতে তার একগুচ্ছ কচি ধানের শিষ।



Monday, 13 May 2019

অন্তরে বিম্বিতঃ

সেদিন জানালায় বসে দেখছিলাম, কীভাবে একটা বাড়ি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। ইটের উপর ইট।সব ইট সমান তাপে শুকনো নয়, কিন্তু বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই ।হঠাৎ নজরে এল  মিস্ত্রির সহচরটি একটা বেশ বড় মাপের তারজালিতে বাল ভরে তারপর ক্রমাগত সেটাকে এপাশ-ওপাশ নেড়ে চলেছে।ঝুরঝুর করে দানাবালি নীচে জমা হচ্ছে। একটা ভীষণ আলোড়ন শেষে তারজালিটিতে জমে ওঠা ঢেলা, নোংরা ফেলে ফেলে দিচ্ছে ছেলেটি। হঠাৎ মনে হল, জীবনেও তো কত নোংরা, ঢেলা লুকিয়ে থাকে। সেগুলো কী করে পরিশুদ্ধ হবে?
জীবন কীভাবে? কখন নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নেই, আমরা বুঝতেই পারি না। কখনও কখনও এমন হয় না? হঠাৎ হঠাৎ আমরা বিভ্রান্ত হয়ে উঠি? মনে হয় জীবনটা এবার থমকে গেল! একটা কোনো ঘটনা জীবনে তুমুল আলোড়ন তুলল। হয় না এমন?
এই আলোড়নই আসলে জীবনের তারজালি। জীবনের সাথে মিশে থাকা যা,কিছু ভেজাল। যা কিছু নোংরা, ঢেলা সব আটকা পড়ে সামনে চলে আসে। আর আমরা ঝরঝরে পরিশুদ্ধ হয়ে একধাপ সামনে এগোই। আবার পথচলা শুরু হয়। সঞ্চয় হয় আরও শত শত নোংরা। আবার একদিন জীবনে ঝড় ওঠে, সৃষ্টি হয় আলোড়নের...তবু থামা নয়। জীবন বাড়ি গড়তে হলে ইটের  পর ইট এভাবেই গেঁথে যেতে হবে।
এটাই জীবন,এটাই পথচলা।

Wednesday, 21 November 2018

জীবন ছবি

জীবন ছবি


জীবন মানে নদীর মতো বইতে থাকা। চলার পথে ধুলো মাখা রত্ন, মৃত প্রাণী, পতঙ্গ, উদ্ভিদের জীবাশ্ম সঞ্চিত করে ব-দ্বীপ রচনা করা,আর অবসরে সেই ব-দ্বীপের উর্বর মাটি কর্ষণ করে ফসল ফলাতে ফলাতে একদিন সেই মাটিতেই মিশে যাওয়া।





Sunday, 18 November 2018

জোনাকির জানালা



অনেক দিন ধরে একটা ইচ্ছা ছিল নিজের একটা ব্লগ করার। একটা জানালা, যার চারপাশ ঘিরে থাকবে অসংখ্য জোনাকি। জোনাকির আলোয় উদ্ভাসিত হবে আমার সৃষ্টিরা। আমার সৃষ্টিরা মানে আমার গল্পেরা। মনের গভীরে জেগে থাকা ইচ্ছেরা। একটাই তো খোঁজ জীবনে! নিজেকে খুঁজে চলেছি অনন্তকাল ধরে। এখোঁজের যে কোনো অন্ত নেই জানি সেটা। আমি তো অন্ত চাই না! চাই যে খোঁজ নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলাম, সেই খোঁজ নিয়েই ফিরে যেতে। খোঁজের শেষ প্রান্তে লেখা থাকে স্থবিরতার নাম।আমি স্থবির হতে চাই না।