Translate

Showing posts with label অণুগল্প_flash fiction. Show all posts
Showing posts with label অণুগল্প_flash fiction. Show all posts

Friday, 4 June 2021

কিকিরুরু

 কিকিরুরু

কিকিরুরু... কিকিরুরু। কিছুক্ষণ থেমে আবার। সোনাঝুরি আর শিরীষের. বন ঘুরে তরঙ্গের মতো শব্দটা ছড়িয়ে পড়ছে। চোখদুটো চঞ্চল হয়ে উঠছে আমার।
খুঁজছি, কে ডাকে অমন করে? আমি যেন দিনে দিনে কেমন পক্ষীবিশারদ হয়ে উঠছি। কোন পাখি কখন কী সুরে ডাকে সব জানি, কিন্তু এ ডাকটা অদ্ভুত তো! অচেনা! কে ও? আমি মনে মনে উচ্চারণ করলে ভারি মিষ্টি লাগছে, কিন্তু পাখির স্বর তীক্ষ্মধার।

পাতার ফাঁকে শক্ত, দীর্ঘ কমলা রঙের ঠোঁট। ডানায় ময়ূরের কন্ঠ রং, বুকের কাছে সাদা।
আমি  বললাম, "ও... তোর নাম তো মাছরাঙা।"
 সে তখন উঁচু ডালে বসে ঘাড় কাত করে তাকিয়ে নীচের জমা জলে।
অস্বচ্ছ কাদাঘোলা জলে পা ডুবিয়ে নীচু হয়ে মাছ অথবা গুগলি খুঁজছে মেয়েটি। পরনে একটা ছোটো ইজের।
মাছরাঙাটা ওর দিকে তাকিয়ে কিকিরুরু ডাকছে।
আচ্ছা, কিকিরুরু মানে কি প্রতিদ্বন্দ্বী?

রুমকি রায় দত্ত 









Wednesday, 28 November 2018

অণুগল্প ছুটির ছুটি

মন ভীষণ উচ্ছ্বসিত, তবে এ উচ্ছ্বাস কিছু পার্থিব প্রাপ্তির জন্য নয়।এ উচ্ছ্বাস সেই অমূল্য সম্মান প্রাপ্তির জন্য, যা আমাকে এনে দিয়েছে আমার প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ "যাপ্যযাত্রা" । কিন্তু সেই অজানা পাঠকের মনের দরজায় তো পৌঁছাতেই হবে আমাকে,যাঁরা এখনও পিরিচিত নয় আমার লেখার সাথে। আসুন পাঠক আমার দুনিয়ায় আপনাকে স্বাগত জানাই। একটি অনুগল্প আজ আপনাদের জন্য।


ছুটির ছুটি
            ---রুমকি রায় দত্ত
ছুটির সাথে আমার প্রথম পরিচয় আমাদের ফ্ল্যাটের পাঁচতলার ছাদে। আর শেষ দেখা?—তবে সেই কথায় বলি।
সেদিন ছিল অমাবস্যাঝুপ করে নেমে আসা অন্ধকারের চাদরে পৃথিবী প্রায় অদৃশ্য। আমি ছাদে উঠতেই দেখলাম,ছাদের এক কোনে দাঁড়িয়ে আছে একটা মেয়ে। অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দূরে টাওয়ারের মাথায় জ্বলতে থাকা লাল আলোটার দিকে। কাছে যেতেই বলল, “জানেন,ঐ আলোটার মধ্যে এক অদ্ভুত মায়াবী হাতছানি আছে। রোজ এসে ওটার দিকে তাকিয়ে থাকি। যত দেখি তত যেন প্রেমে পড়ে যায়। কেউ বুঝবেনা এ প্রেম!—আপনি ও না”।

আমি বললাম, ‘তুমি আমাকে চেন’?

ও বলল, ‘চিনিতো,আমি এখানকার সবাই কে চিনি’।

আমি বললাম, ‘আমি কিন্তু তোমাকে চিনি না’।

ও বলল, ‘আমি ছুটি’।

সেই শুরু। আমি রোজ অফিস থেকে এসেই ছুটে যেতাম ছাদে,ওকে দেখব বলে,আর ও যেত ঐ লাল আলোটাকে দেখবে বলে। ওকে ভাল করে না দেখেই, না জানি কোন অমোঘ টানে ওকে ভালোবেসে ফে্লাম। একদিন ঠিক করলাম ওকে সব জানাব,সেই মত প্রস্তুত হয়ে ছাদে গেলাম কিন্ত ছুটিকে দেখতে পেলাম না। পরদিন—তারপরদিন এইভাবে সাতদিন,ছুটি আর ছাদে এল না। আমি ওর সম্বন্ধে কিছু জানতাম না। নিজের উপর ভীষণ রাগ হলো। মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা করল,নিজের গালে চড় মারতে ইচ্ছা হল। কিছুতেই ছুটির খোঁজ পেলাম না। দিন সাতেক পর একটা চিরকুট পেলাম দরজায় লাগানো,লেখা আছে—“অনিরুদ্ধ,আমি জানি এখন আপনার মনের অবস্থা,ঠিক লাল আলোটা না দেখলে আমার যেমন হয়। আমি এখন ‘দেবভূমি’ নার্সিং হোমের ৭নং রুমের বাসিন্দা”।

এরপর আমি আর দেরি করিনি,পরদিন সকালেই একগুচ্ছ লাল গোলাপ নিয়ে ছুটে গেলাম নার্সিং হোমে,সোজা ৭নং রুমের সামনে। দেখলাম,একজন আয়া চাদর পাল্টাচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘পেসেন্ট কোথায়’?
সে বলল, ‘কে, মিস ছুটি? ওরতো ছুটি হয়ে গেছে,মানে ক্যানসার ছিল,লাস্টস্টেজে’.........