অবসর
রুমকি রায় দত্ত
টেবিলের উপরে সযত্নে রাখা এক
দিস্তা সাদা পাতা। আলগা পাতাগুলো হাওয়ায় ফরফর করে উড়ছে। উপরের পাতার উপর রাখা খোলা
কলমটাও তালে তালে নাচছে। অনেক পুরানো নিব লাগানো কালিকলমটা। খোলা মুখের সাথে পাতার
ঘর্ষণে একটা অদ্ভুত আঁকিবুকির সৃষ্টি হয়েছে সাদা পাতাটার গায়ে, যেন শুভ্রর জীবন
থেকে কালো অক্ষরের ক্রমাগত দূরে সরে যাওয়ার ইতিহাস লিখেছেন বিধাতা-পুরুষ।
টেবিলের
বাঁ-পাশে দক্ষিণ খোলা জানালাটা, মেঝে থেকে প্রায় ছাদ পর্যন্ত লম্বা। আগেকার দিনের
জানালার মতো দেখতে। যদিও শুভ্রর এই বাড়িটির গঠন একেবারে
আধুনিক কিন্তু তিনতলার ছাদে ওঠার আগেই ডানদিকের এই ঘরটি, শুভ্র একেবারে নিজের মত
সাজিয়েছে। একটা প্রাচীনতার ছোঁয়া, ঠিক ওর ছোটোবেলার ফেলে আসা বাড়িটার মত। দক্ষিণে
লম্বা খোলা জানালা,উত্তরে টানা লম্বা ব্যালকনি,পশ্চিমের জানালার পাশে একটা মেহগনি
কাঠের খাট। জানলাগুলোর মাথার উপরে লাল সাটিনের ঝালর, দু’পাশ থেকে নেমে এসেছে সাদা
নেটের পর্দা। মাঝখানটা বাঁধা। খাটটা অবশ্য সেই পুরোনো বাড়ি থেকে আনা কিন্তু বাড়িটা
আজ আর নেই! বাবার রমরমা ব্যবসায় হঠাৎ কীভাবে যেন ভাঁটা নেমে এসেছিল।
পুরোনো বাড়ি থেকে ওরা যখন ভাড়া বাড়িতে উঠে
আসে, তখন সঙ্গে ফার্নিচার বলতে শুধু এই খাটটা ছিল। মা’র কাছে শোন মায়ের দাদু নাকি
এই খাটেই শুতেন। প্রায় দেড়শো বছরের পুরোনোতো হবেই। বর্তমান বাজারে নিলামে উঠলে
কোটিরনীচে দাম হবে না।
মিলির আধুনিক মহলে যে এখাটের জায়গা হবে না সেটা শুভ্র ভালো
করেই জানত,তাই শহর ছাড়িয়ে একটু একান্তে থাকার ইচ্ছায় এই অঞ্চলে যখন বাড়িটা তৈরি
করে, তখনই নিজের একান্ত জগৎটাকে সাজিয়ে নেবে বলেই এই ঘরটা তৈরি। কত জল্পনা
কল্পনা,অবসরে নিরালায় কলম আর অক্ষরের সাথে একান্ত যাপন করবে এখানে। লিখতে লিখতে
লেখা থামিয়ে ব্যালকনি বেয়ে উঠে আসা মানিপ্ল্যান্টটার দিকে চেয়ে থাকবে। মাথার ভিতরে
এলোমেলো হয়ে থাকা গল্পগুলো ফুলের মালার মতো সাজানো হলেই গালে লেগে থাকা কলম আবার
সচল হয়ে উঠবে।
উফ্! কোন অশুভক্ষণে যে এই লেখক হওয়ার স্বপ্নটা শিলালিপির মতো খোদিত
হয়ে গিয়েছে ওর মনে! অখন্ড অবসরের আশায় কবে যেন ব্যালকনির বাম দিকে লাগানো
মানিপ্ল্যান্টটা আর ডানদিকে লাগানো মাধবীলতা বড় হয়ে দোতলায় পৌঁছে গিয়েছে সে সময়ের
হিসাব মেলাতে পারে না শুভ্র। প্রতিদিন ভোরে একটুকরো অবসর
কোথাদিয়ে যেন কেটে যায় খোলা ছাদে গাছেদের সাথে। ভোরের ঐ একটুকরো টাটকা বাতাসই
সারাদিন ওকে সময়ের সাথে যুদ্ধ করতে শক্তি দেয়।
এখন অবসরটা শুভ্রর কাছে মরুভূমিতে মরীচিকার সমান অথবা ঘন কালো মেঘের
মাঝে এক ঝলক বিদ্যুৎ; যার আলো, অন্ধকারে পথ হারানো পথিককে পথ চলার আশা তো দেখায়
কিন্তু পথ দেখায় না। হাতের ফাঁকে ধরে রাখা একমুঠো বালুকণার মত একটু একটু করে ফসকে
যায় সময়। আজ গাছেদের কাছ থেকে সময় চুরি করেছে শুভ্র। সকালে ছাদে না গিয়ে এসে
ঢুকেছে ওর এই একান্ত নিজের ঘরটিতে।
গত রাতে ঘুমের মধ্যেই টের পাচ্ছিল মস্তিষ্কের
উর্বরতার। অনেকেরই এমন নাকি হয় মাঝে মাঝে। অবচেতন মনে সঞ্চিত তথ্য স্বপ্নে গল্প
হয়ে ওঠে। ঘুম ভাঙার পর আসন্নপ্রসবার মতো ভিতরটা অস্থির হয়ে ওঠে। শুভ্রর ভিতরের সেই
অস্থির প্রবণতা জমতে জমতে পাহাড় হয়ে উঠেছে। সকালে ছাদে যাওয়ার আগে কিছুটা নিজের
অজান্তেই যেন কোনো এক অমোঘ আকর্ষণে ঢুকে পড়েছে এই ঘরে। দক্ষিণের খোলা হাওয়ায় ওর
সাদা পাঞ্জাবিটা পতপত করে উড়ছে। শুভ্র এতক্ষণ ঐ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল
উন্মুক্ত প্রকৃতির দিকে। হাওয়ায় উড়তে থাকা সাদা পাতাগুলোর শব্দে ঘুরে তাকালো
টেবিলের দিকে। যেন সাদা পাতা গুলো ওর দিকে তাকিয়ে উপহাস করছে। নিজের অর্জিত
বিদ্যাকে যান্ত্রিক ঘূর্ণাবর্তের মধ্যে ফেলে পিষে মুঠো মুঠো টাকা উৎপাদন করে
চলেছে।
হ্যাঁ, এই যান্ত্রিক জীবন ও
স্বেচ্ছায় বেঁছে নিয়েছে ঠিকই,কিন্তু সে সময় পরিস্থিতি তো এমনই ছিল, অর্থের কাছে
হার মেনে ছিল অক্ষর। সেদিন যদি সে অক্ষরকে বিসর্জন না দিত, তবে আজকের এই এত
সামাজিক সম্মান, এত অর্থ,গাড়ি-বাড়ি সব যে অধরা থেকে যেত। পারত কি মিলির মুখে
ফোটাতে সফল স্বামীর গর্বে গর্বিণীর হাসি,মেয়েকে
একটা ভালো স্কুলে ভর্তি করতে? আজকাল কে আর ঘরে বসে গল্প-উপন্যাস লিখিয়েদের সম্মান
দেয়। নিদেন পক্ষে একটা বই ছাপাতেও তো টাকা লাগে। তাই, বাধ্য হয়েই তো ও নির্বাচন
করেছে অর্থকে। হেসে ওঠে শুভ্র। ওর মতো সফল মানুষ এ সমাজে কটা আছে? লোকে ওর সফলতাকে
দেখে ঈর্ষা করে, কিন্তু সবটাই যে ওর বাইরের আবরণ। ওর অন্তরটা যে ফেলে আসা এক সুপ্ত
ইচ্ছা নিয়ে নিশিদিন হাহাকার করে,সেই অন্তরটা তো সকলের অজানা। এমনকি মিলিও জানে না,
কোনদিন জানতেও চেষ্টা করেনি।
একপা একপা করে এগিয়ে আসে টেবিলের
কাছে। পাতা গুলো উড়তে উড়তে থেমে যায়, শুভ্রর গায়ে আড়াল হয়েছে হাওয়া। চেয়ারটা টেনে
নিয়ে বসে পড়ে। আড়াল সরতেই দমকা হাওয়ায় আবার নড়তে থাকে কাগজগুলো। পেনটা হাতে তুলে
নেয়। মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় আজ কাজের কাছ থেকে চুরি করবে অবসর। আজ লিখবে ও অনেক
লিখবে। ঠিক কতগুলো দিন,নাকি মাস বা বছর কাগজ কলমের থেকে দূরে আছে মনে নেই। মনে
করতেও চায় না। ভিতরটা আকুলিব্যাকুলি করছে,গুলিয়ে যাচ্ছে সব কথা। অক্ষরগুলো যেন
এলোমেলো ছোটাছুটি করছে কে আগে জন্মাবে। শুভ্র গালে পেন ঠেকিয়ে ব্যালকনি থেকে উঠে
আসা মানিপ্ল্যান্টের দিকে তাকিয়ে প্লট সাজাতে লাগলো। টেবিলে রাখা ঘড়িটাকে উলটে
দিল। আহা! একটা অদ্ভুত তৃপ্তির আকুলতা। এ আকুলতা
অক্ষরের সাথে সহবাসের।
বন্ধ দরজার ওপাশ থেকে টুকটুক শব্দ
ভেসে আসতেই বিরক্তিতে সামান্য ভ্রূ কুঁচকে গেল শুভ্রর। দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো
মিলি।
উফ্! এখানে এসে বসে আছো, আর আমি
ছাদে গিয়ে খুঁজছি তোমায়।
কেন? এই সময় তুমি হঠাৎ আমাকে
খুঁজছো যে!
হুমম, খুঁজছি। রমা ছাদে চা দিতে
গিয়ে খুঁজে পায়নি তোমায়, তাই বাধ্য হয়ে আমাকেই আসতে হল। এই নাও তোমার চা। হাতে ধরা কাপপ্লেটটা আর মোবাইলটা নামিয়ে রাখলো
টেবিলে। শুভ্রর ফোনটাও টেবিলে রেখে এগিয়ে গেল উত্তরের ব্যালকনির দিকে। থোকা থোকা
মাধবীলতা ঝুলে আছে। গন্ধে ম ম করছে চারপাশটা। শুভ্রর কেমন যেন একটা অস্বস্তি হচ্ছে
ভিতরে ভিতরে। মিলির উপস্থতিটা অনাহূতের মত অসহ্য লাগছে এই মুহূর্তে কিন্তু গিলে
নিতে হচ্ছে বিরক্তি। মিলিতো ওর কোনো অধস্তন কর্মচারী নয়, সে
এই মহলের সর্বময় কর্ত্রী।
ব্যালকনি থেকে উচ্চস্বর শোনা গেল
মিলির, ‘শুনছো, তোমার ফোনটা একবার সময় করে দেখে নিও। দু-বার ফুল রিং হয়ে কেটে গেছে’।
শুভ্র রাগের চোটে মোবাইলটা নিয়ে
ছুঁড়ে ফেললো বিছানায়। আজ সকাল থেকেই একটা বিদ্রোহ যেন চেপে বসেছে ওর মাথায়। দেখবে
না মোবাইল। যার ফোনই হোক ধরবেনা, শুধু এখন মিলি ঘর থেকে বেরোলে হয়। মিলি বেরোলেই
ঝাঁপিয়ে পড়বে সাদা পাতাগুলোর উপর কামার্ত প্রেমিকের মতো।
মিলি ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে গুনগুন
করে গান করছে। এক থোকা মাধবীলতা ফুল হাতে ধরে প্রাণ ভরে গন্ধ নিল। এগিয়ে গেল
মানিপ্ল্যান্টটা’র দিকে। হলদে কচি পাতাগুলো বড্ড আকর্ষণীয়। আবার উচ্চস্বরে
ব্যালকনি থেকে বললো, ‘তুমি কিন্তু এই ঘরটা দারুণ সাজিয়াছ শুভ্র! আমি ভাবতেও পারিনি
প্রাচীনত্বের এত আভিজাত্য থাকে। বিশেষ করে এই ব্যালকনিটা ফ্যান্টাস্টিক!’
শুভ্র ভিতরে ভিতরে অস্থির হয়ে
উঠছে। বেশ আট-দশ লাইন লিখে ফেলেছে এর মধ্যেই তবুও মাথাটা কিছুতেই স্থির হচ্ছে না।
ব্যালকনির দিকে তাকাতেই দেখতে পেল মিলির লাল রঙের শাড়ির আঁচলটা উড়ছে। বাহ্, এই
শাড়ির আঁচল নিয়েই তো কত কিছু লিখে ফেলা যায়! আরো খানিকটা উর্বর হয়ে উঠলো মাথাটা।
মিলি আস্তে আস্তে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। শুভ্র গুছিয়ে লিখতে বসল। আজ তিতলির স্কুল ছুটি, স্কুলের প্রতিষ্ঠা দিবস না কি যেন একটা
আছে! বাজার-হাট করা আছে সবই। একটু পরে উঠে ফোনটা সুইচ অফ করে দেবে। মনে মনে ছোট্ট
একটা প্ল্যান সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে বসে শুভ্র। দু’লাইন লিখতে না লিখতেই মোবাইলটা
আবার বেজে ওঠে। বিরক্তিতে মুখ কুঁচকে ওঠে শুভ্রর। ফোনটা পুরো বেজে বন্ধ হয়ে আবার
বেজে উঠতেই শুভ্র চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে ছুটে যায় খাটের কাছে। সুইচ অফ করতে গিয়েও
পারে না,রিসিভ করে ফোনটা। নিমেষে বদলে যায় মুখের আদল। প্রায় উদ্ভ্রান্তের মতই ঘর
থেকে ছুটে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে থাকে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পোশাক বদলে বেরিয়ে
পড়ে গাড়ি নিয়ে।
২
নির্মীয়মান বারোতলা বিল্ডিং
নক্ষত্র হাইটস। শুভ্রর স্বপ্নের প্রজেক্ট। গাড়ি থেকে নেমেই
চোখে পড়ল নক্ষত্র হাইটস এর নিচে অসংখ্য মানুষের ভিড়। একটা চাপা উত্তেজনা,কোলাহল।
প্রায় ছুটেই গেল সেই দিকে। দু’হাতে ভিড় ঠেলে পৌঁছালো ভিতরে। একচোখ দেখেই আঁতকে উঠল। রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছে একটা শ্রমিক।যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। কোমরের কাছে শরীরটা দু’পাশে সরে গিয়েছে। উফ্,
বিভৎস! কিন্তু কি করে এমন দুর্ঘটনা হতে পারে! সুরক্ষার সবরকম ব্যবস্থা নিয়েই তো কাজ
চলছে। ও নিজে সব দেখে নিয়েছে। কি করে পড়ে যেতে পারে লোকটা এগারো তলা থেকে!
চারিদিকের গুঞ্জন বলে দিচ্ছে বিক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। শুভ্র হসপিটালে ফোন করে।
লোকটাকে সকলে মিলে ধরে অ্যাম্বুলেন্সে তুলছে।
দৃশ্যটা কেমন যেন মস্তিষ্কের ফ্রেমে বন্দি হয়ে যায় শুভ্রর। হ্যাঁ, প্লট...এটা
দিয়েই একটা গল্প লিখে ফেলতে পারে শুভ্র। অ্যাম্বুলেন্সের
পিছনে পিছনে ছুটছে শুভ্রর গাড়ি। হসপিটালের করিডর পেরোতেই ডাক্তার শ্রমিকটিকে মৃত
বলে ঘোষণা করে। শুভ্র বুঝতে পারে সামনে অনেক কঠিন সময় ওকে পেরোতে হবে। শ্রমিকটির
মৃত্যু ওকে কাঠগড়া পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু ওর পুরো কনফিডেন্স আছে
নিজের প্রতি। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সময় লাগবে না। সেফটি সিস্টেমে কোনো
গণ্ডগোল ছিলনা এটা নিশ্চিত শুভ্র,তবে কিভাবে ঘটলো এমন ঘটনা? বিদ্যুতের ঝলকের মত
ক্ষণিক সময়ের জন্য মাথায় খেলে গেল মৃত্যু রহস্য নিয়েই লিখে ফেলা যেতে পারে আরেকটা
গল্প। উফ্! এত প্লট অথচ একটু সময়! সামান্য একটু সময় মানে একটা দিন যদি পেত,তবে
গুছিয়ে লিখে ফেলতে পারত।
সারা রাত কেটে গেল অফিসের কেবিনে
বসে। শুভ্র দোতলার জানালা দিয়ে দেখল,
বাইরে অফিসের সামনে ইউনিয়নের লোকজন দলবেঁধে পাহারা দিচ্ছে। নিজেদের দাবি আদায়ের
জন্য ঘেরাও করেছে অফিস কর্তাদের। দশটার পর বোর্ড মিটিং বসবে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে
ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়ে। তার আগে তদন্ত কমিশন গঠন করে ঘুরে দেখা হবে ঘটনাস্থল।
প্রজেক্ট হেড হিসাবে তদন্ত কমিশনের সদস্য হয়ে ওর ও থাকার কথা,কিন্তু এক্ষেত্রে
তদন্তটা হবে ওর বিরুদ্ধে। এইখানেই একটা কেমন যেন মানসিক একটা চাপ অনুভব করছে।
ক্ষণিকের জন্য হলেও সবার চোখেই কেমন যেন একটা প্রশ্নচিহ্ন দেখতে পাচ্ছে। একটু
সামনের খোলা ব্যালকনিতে দাঁড়াতে ইচ্ছা করছে। বেরোতে গিয়েও থমকে গেল শুভ্র। এখন সব
রাগ যে ওর উপর সেটা ভালোই টের পাচ্ছে ওদের স্লোগান শুনে। খোলা জায়গায় ওকে পেলে
যেকোনো রকম দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বদ্ধ ঘরে দম যেন বন্ধ হয়ে আসছে ওর। কাজহীন
এভাবে বসে থাকাও যেন এক শাস্তি। শুধু ফোনের পর ফোন আর একই বিষয়ে বকবক। অদ্ভুত এক
গিলে খাওয়া অবসর, আনপ্রোডাক্টিভ। কথাটা মনে হতেই নিজের মনেই হেসে উঠল শুভ্র। অবসর
আর আনপ্রোডাক্টিভ কেমন যেন শোনাচ্ছে। ঘড়ির কাঁটা দৌড়াচ্ছে। অফিসের অন্দরের কাজ
কর্ম শুরু হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই। সূর্য মাঝ গগন থেকে পশ্চিমে ঢলতে শুরু করেছে।
শুভ্র জানালার কাচ দিয়ে বাইরেটা দেখল। এক গাড়ি পুলিশ
এসে সরিয়ে দিচ্ছে বিক্ষোভকারীদের। এবার মুক্তির সময় আগতপ্রায়।
৩
দীর্ঘ মাসখানেকের অস্থিরতা,থানাপুলিশের
টানাটানি, কেমন যেন ঝলসে গিয়েছিল জীবনটা। শুভ্রর সামনে এখন দশদিনের অখন্ড অবসর।
উত্তরাখণ্ডের এক নির্জন পাহাড়ে,প্রকৃতির কোলে এই দশটাদিন অবসর যাপনের জন্য এসেছে
শুভ্র। হোটেলের সবুজ লনে আরামকেদারায় বসে দেখছে সূর্যোদয়। খাদের কোলজুড়ে বয়ে চলেছে
মেঘসমুদ্র। শুভ্র বসে আছে একদিস্তা সাদা খাতা হাতে,গালে ঠেকানো পেন। গত দু’দিন ধরে
এই একই ভাবেই সাধনা করে চলেছে অক্ষরের কিন্তু সব কিছু যেন কেমন ফাঁকা হয়ে গিয়েছে
মাথার ভিতরে। অক্ষরও বুঝি নিরুদ্দেশের পথে হারিয়ে গিয়েছে অবসর যাপনে।